মোঃ আব্দুল মালেক, রাণীনগর নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
অক্টোবর ২৯, ২০২১
১০:২৪ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ; স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির নেতারাও

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ; স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির নেতারাও

রাণীনগরের ৮ ইউপি নির্বাচন

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ। উপজেলার প্রতি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছেন। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মীরাও। এছাড়া ৮ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছড়াছড়ি। আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে রাণীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলার ৮ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৩২ জন। পুরুষ ভোটার ৭৬ হাজার ২০৭ জন আর নারী ভোটার ৭৫ হাজার ৫২৫ জন।

এই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৮ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী ১৫ জন, জাতীয় পার্টির ২ জন, ইসলামী আন্দলোন বাংলাদেশ পার্টির ৬ জন প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ১১ জন বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের এবং ৬ জন স্বতন্ত্রসহ চেয়ারম্যান পদে মোট ৪৮ জন প্রার্থী। এছাড়া উপজেলার ৮ ইউপিতে সংরক্ষিত পদে ৮৮ জন প্রার্থী ও সাধারণ সদস্য পদে ২৬৬ জন প্রার্থী। এদিকে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সমর্থদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক আওয়ামী লীগের কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী বলছেন, নির্বাচনে অংশ গ্রহণের পর থেকেই সরকার দলীয় প্রার্থীর লোকজন ও স্থানীয় ইউনিয়নের বেশ কিছু নেতাকর্মীরা তাদের ও সমর্থদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।

জানা গেছে, উপজেলার খট্টেশ্বর রাণীনগর সদর ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ মনোীনত (নৌকা) প্রার্থী চন্দ্রনা সারমিন রুমকি। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ নেতা নজমুল হক (আনারস) প্রতিক নিয়ে। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সহযোগী সংগঠন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ফরহাদ মন্ডল (মটরসাইকেল)।

কাশিমপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী আলমগীর হোসেন। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন কাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবকে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান (মটরসাইকেল), বিদ্র্রোহী প্রার্থী কাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর (অটোরিক্সা)। চেয়ারম্যান পদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী আব্দুল আজিজ শেখ (হাতপাখা)। চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ শাহিনুর ইসলাম (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী কাশিমপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাখলেছুর রহমান বাবু (আনারস) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা যুবদল নেতা বেদারুল ইসলাম (চশমা)।

গোনা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী আব্দুল খালেক। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আরিফ রাঙ্গ (ঘোড়া), বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থক আবু শায়েম শাহিন (টেবিলফ্যান)। জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সেলিম আক্তার টিটু (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী আব্দুল মালেক (হাতপাখা)। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী গোনা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সমর্থক জিয়াউর রহমান (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস শেখ (মটরসাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা হাসান আলী (অটোরিক্সা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন (রজনীগন্ধা), স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মশিউর আলম মোহন (টেলিফোন)।

পারইল ইউনিয়নে আ’লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী নুরে আলম সিদ্দিকি (দুলাল)। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন পারইল ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান (মটরসাইকেল), সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সুজিত কুমার সাহা (অটোরিক্সা), আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক বাচ্চু (চশমা)। স্বতন্ত্র প্রার্থী গৌতম কুমার (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবদল নেতা জাহিদুর রহমান জাহিদ (ঘোড়া)।

বড়গাছা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী আব্দুল মতিন। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন বড়গাছা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন মল্লিক (মটরসাইকেল)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী মাহবুর আলম (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজু প্রাং (আনারস)।

কালীগ্রাম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী সুবাস চন্দ্র সরকার। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাব চাঁন (ঘোড়া)। চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আয়েত আলী প্রাং (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ (হাতপাখা)। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মেদ মহিউল চৌধুরী (আনারস), স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তাফিজুর রহমান (মটরসাইকেল)।

একডালা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী শাহজাহান আলী। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (মটরসাইকেল), বিদ্রোহী প্রার্থী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সমর্থক আজিজুর রহমান (আনারস)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পাটির প্রার্থী আতাউর রহমান (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা মজিবর রহমান (টেবিলফ্যান)।

মিরাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রার্থী জিয়াউর রহমান। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল আলম (মটরসাইকেল), বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ফাকরুল হাসান (ঘোড়া)। চেয়ারম্যান পদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন (চশমা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা ইয়াকুব আলী (অটোরিক্সা), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি সমর্থক শামসুর রহমান (আনারস) প্রতিক নিয়ে লড়ছেন।

এই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এ প্রসঙ্গে রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলুর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থীতা চূড়ান্ত হওয়ার পর আমরা প্রতিটি ইউনিয়নের বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলছি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্যও তাদের বলা হয়েছিলো। কিন্তু তারা প্রত্যাহার করেননি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

আসন্ন ইউপি নির্বাচন নিয়ে সাধারণ, তরুণ ও নতুন ভোটারদের সাথে কথা বললে তারা বলছেন, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর সেবা পেতে তারা বিশ্বাসী। যারা দুর্নীতি, অনিয়ম, মাদক ও সকল বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে আগামী দিনের নেতৃত্ব দিবেন এলাকার উন্নয়ন করবেন ও যাকে তাড়া যোগ্য প্রার্থী হিসেবে মনে করবেন তাকেই তারা ভোট দিবেন।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাচন ও রির্টানিং কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, আগামী ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধুমাত্র কাশিমপুর ইউনিয়নে ইভিএম এর মাধ্যমে ও ৭ ইউনিয়নে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *