ডিসেম্বর ২৫, ২০২০
৮:১৭ অপরাহ্ণ

আহমদ শফীর মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন ৩১৩ জন আলেম

হেফাজতে ইসলাম বাংলদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য ২ দিন ধরে চরম নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়ন চালিয়েছে বলে দাবি করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন দেশের শীর্ষ ৩১৩ আলেম-পীর মাশায়েখ।

শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) মহিব্বিনে আহমদ শফি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রচার সচিব মাওলানা মুফতি আব্দুস ছাত্তারের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেশের এই শীর্ষ আলেমরা এ দাবি জাানান।

মুফতি ওসমান (ঢাকা), মুফতি নুরুল ইসলাম (ঢাকা), আব্দুল কাদের, মুফতি সাইফুল ইসলাম (ঢাকা), মুফতি খেফায়ত উল্লাহ (ঢাকা), মুস্তাফা কামাল (সিলেট), মুফতি সিরাজুল ইসলাম (চট্টগ্রাম), মুফতি নোমান কাসেমী (নোয়াখালী), মাহমুদুল হাসান জিহাদী (চট্টগ্রাম), রহিম উল্লাহ নোমানী (কুমিল্লা), আব্দুল হক (চাঁদপুর), আব্দুস সাত্তার জিহাদী (ঢাকা), মুজাহেরুল হক (জামালপুর), সাইফুদ্দিন কাসেমী (চট্টগ্রাম), আমিনুল ইসলাম (বাগেরহাট), নাছির উদ্দিন আফেন্দি (পাবনা), মুফতি আহমদ আলী (কুমিল্লা), হাফেজ জাবের আহমদ (নরসিংদী), মুফতি ফয়জুল করিম (সিলেটি), শহিদুল্লাহ (যশোর), ইয়াকুব আহমেদ (কক্সবাজার), মুবিনুল হক, এনামুল হক, সুলাইমান, সাদেক হোসাইন, ইকবাল হোসেন, সাকের হোসেন জালালী, নজরুল ইসলাম রহিমী, আব্দুল ওয়াহাব জাফরী নওগা, মুফতি রফিকুল ইসলামসহ ৩১৩ জন আলেমের বিবৃতি তুলে ধরা হলো।

‘হাটহাজারী মাদ্রাসায় আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস লুটতরাজের মাধ্যমে আল্লামা আহমদ শফির রুম ভাংচুর মাদ্রাসার মুহাদ্দিসদের রুম ভাংচুর ও তাদেরকে শারীরিকভাবে মারধরের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা পুরো কওমি অঙ্গনকে কুলষিত করেছে। জামাত শিবিরের ক্যাডার ও চরমপন্থীরা এ চক্রান্তের সাথে জড়িত। মূলত হাটাহাজারী মাদ্রাসার ক্ষমতা দখল, কওমি অঙ্গনকে দখল ও রজনৈতিকভাবে সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্লাট ফরম তৈরি করতে এবং কওমি মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ ছাত্র-তরুণ প্রজন্ম সরকার বিরোধী ইস্যু সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের পতন তরান্বিত করতে বিরোধী রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শাহ আহমদ শফীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়াই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।’

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘আজ যখন আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পরিবার হত্যার বিচার চেয়ে ধারে ধারে ঘুরছে, যখন বিচারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হল, তখন আমরা দেখতে পাচ্ছি এক শ্রেণীর ক্ষমতা লোভী ও রাজনৈতিক এজেন্ডা বস্তবায়ন কারিরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিকে অস্বীকার করে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর লাশ কবর থেকে তুলতে হবে বলে সধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি করছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। সাথে সাথে সরকারের কাছে অনতিবিলম্বে শায়খুল ইসলামের খুনের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং দোষীদেরকে গ্রেপ্তার পূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।’

বিবৃতিতে ওলামায়ে কেরাম-পীর মাশায়েকগণ আরও বলেন, ‘গত বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) হাটহাজারী মাদ্রাসায় জুনাইদ বাবুনগরী তার আপন মামাকে ও হাটহাজারী মাদ্রাসার কিছু নিরহ ওস্তাদদের সাথে নিয়ে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার মাধ্যমে তিনি একটি কথাই বারবার তুলে ধরেছেন, তা হলো- আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বভাবিক মৃত্যু হয়েছে। যদি স্বভাবিক মৃত্যু হয় তবে তদন্ত হলে সমস্য কোথায়? স্বভাবিক মৃত্যু হলে তদন্তের ফলাফল তইতো বেরিয়ে আসবে। তাহলে তিনি কেন মামলা প্রত্যাহার করার জন্য হুমকি দিচ্ছেন এবং প্রত্যাহার করা না হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে হুমকি দিচ্ছেন?’

‘এতে করে বুঝা যায়, তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বিধায় তারা তদন্ত করাতে রাজি হচ্ছেন না। যদি তার দাবিতে সত্য হয়ে থাকে তাহলে তার উচিত ছিল এ মামলা ও তদন্ত সব কিছুতে সাধুবাদ জানানো। তা না করে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে হুমকি-দমকি দিয়ে এটাই প্রমাণ করলেন যে, আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু অস্বভাবিক হয়েছে। হাটহাজারী মাদ্রাসার কোন ওস্তাদ মামলার অভিযুক্ত না হলেও সংবাদ সম্মেলনে হাটহাজারী মাদ্রাসার ওস্তাদদেরকে উপস্থিত রেখে মূলত নিরহ আলেম ওলামাদেরকে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং পাবলিকের দৃষ্টি ভঙ্গিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার পায়তারা করছেন বলে বিবৃতিতে জানান আলেমরা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘৩৬ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে যে মামলা হয়েছে তারা সবাই আল্লামা শাহ আহমদ শফীর হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। শাক দিয়ে মাছ ডাকতে তারা আজ বিভিন্ন আলেমদের নামে নিজেদের বিবৃতি দিচ্ছে মিডিয়াতে। যারা আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজায় শরিক হয়েছিলেন তারা সবাই আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে হত্যাকাণ্ডের নিশান প্রত্যক্ষ করেছে এবং হযরতের পরিবার থেকে একাধিকবার বক্তব্য ও সাংবাদিক সম্মেলন করে বিচারের দাবি করা হয়েছে। একজন ভিকটিম হিসাবে হত্যার বিচার দাবি করা তার পরিবারের জন্য আপরাধ? সন্ত্রাসিরা হযরতের পরিবার এবং মাওলানা আনাছ মাদানীকে আজও হত্যার হুমকি দিচ্ছে, তাদের হুমকির ভয়ে তিনি সচরাচর চলাফেরা করতে পারছে না। আমরা এই পরিস্থিতির জন্য আইন শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কমনা করছি।’

যে কোন অবস্থায় কওমিয়াতের ঐক্য ধরে রাখতে ও ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পা না দিতে সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান আলেমরা।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *