জুলাই ২৮, ২০২০
৯:০৭ অপরাহ্ণ

ঈদের আনন্দে কোরবানি

মকবুল হোসাইন: ঈদ মানে আনন্দ,ঈদ মানে নতুন জামা কাপড়ের ছড়াছড়ি। পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলমানদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশে কভিড-১৯ এর মহামারির মধ্যেও এই ঈদ উদযাপন সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে ভালোবাসা,ভ্রাতৃত্ববােধ ও স্রষ্টার সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ করে দেবে।

ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। কেননা এই ঈদের সর্বশ্রেষ্ঠ তাৎপর্য হচ্ছে পরহেজগার মুসলমানদের তাক্বওয়ার অগ্নিপরীক্ষা। স্রষ্টাকে রাজি ও খুশি করার নিমিত্তে প্রত্যেক মুসলমান নিজেদের আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক কোরবানি বা আর্থিক বিসর্জন দিয়ে থাকেন।

ইসলামে কোরবানি করার বিধান অতিব গুরুত্বপূর্ন ও পূন্যের একটি ইবাদত। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর খােদাভীতির কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে খুশি হয়ে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সফলতা দান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের উপর কােরবানির বিধান জারি রেখেছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা তাঁর নেককার ও সামর্থ্যবান বান্দাদের কাছ থেকে এইভাবে পরীক্ষা নেবেন।

কাদের উপর এই কােরবানি ওয়াজিব এ প্রসঙ্গে বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন ” তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে অথচ কােরবানি দেয়নি সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে” অর্থাৎ এই হাদিসটির দ্বারা বুঝা গেলাে প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কােরবানি করা অবশ্য পালনীয় একটি ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা বলেন “তােমরা কােরবানির ঐ প্রাণীর মাংস নিজেরা খাও এবং এতিম মিসকিন দের মধ্যে দান করাে” এখানে এটা স্পষ্ট হয়ে যে গরীব মানুষ কােরবানির মাংস গ্রহণ করবে।

এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দার তাক্বওয়ার পর্যবেক্ষণ করেন। বান্দা কি উদ্দেশ্য কােরবানি করছে, রিয়া বা লােক দেখানোর জন্য, নাকি সামাজিক দায়বদ্ধতার চাপে মানুষ কি বলবে কােরবানি না দিলে এটা ভেবে, কিংবা গরুর গােশত খাওয়ার লােভে, নাকি বান্দা একান্তই তার মালিক কে রাজি এবং খুশি করার জন্য কােরবানি করছে তা আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন। কােরবানি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়, প্রতিটি মুসলিমের উচিৎ নিয়্যত সহীহ করা। কােনাে ধরনের লৌকিকতা ও হেঁয়ালিপূর্ণতা যেন অন্তরে বাসা বাঁধতে না পারে সে দিকে নজর দেয়া।

আমরা অনেক সময় নেকির কাজ করতে গিয়ে উল্টো গােনাহ করে ফেলি। কােরবানি শেষে আমরা রক্ত, গোবর ও ময়লা আবর্জনার স্তূপ তৈরি করে রেখে দেই, পরিবেশ নােংরা হয়, বাতাস দূষিত হয়, মানুষের কষ্ট হয় এবং বিভিন্ন ধরনের রােগ ব্যধির সৃষ্টি হয় যা অত্যন্ত গর্হিত গুনাহের কাজ। হাদিসে এসেছে মানুষকে কষ্ট দেয়ার চেয়ে আর নিকৃষ্টতর গুনাহ হতে পারে না। এজন্য আমরা যারা স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য কােরবানি করব আমরা যেন এই বিষয়গুলোর প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ করি, অবশিষ্ট বর্জ্য আবর্জনাকে খোলা জায়গায় না রেখে যেন মাটির নীচে পুঁতে রাখি। সবার ঈদ সুন্দর হােক।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *