ডিসেম্বর ৫, ২০২০
১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
এমসি হোস্টেলে তরুণী গণধর্ষণ:গডফাদাররা থেকে গেলেন আড়ালে

এমসি হোস্টেলে তরুণী গণধর্ষণ:গডফাদাররা থেকে গেলেন আড়ালে

খবর ডেক্সঃ-এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় ৮ ছাত্রলীগ ক্যাডারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হলেও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারা থেকে গেলেও আড়ালে। অভিযুক্তদের গডফাদারদের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করা হয়নি চার্জশিটে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এরকম কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আলোচিত এই ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান (রহ.) থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য বলেন, আমরা ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত করেছি। এর সাথে যারা জড়িত তাদের খোঁজে বের করেছি। এতে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আবুল কাশেমের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৮ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট প্রদান করে। এতে ঘটনার সাথে সরাসরি ৬ জনকে অংশ নেন এবং ২জন সহযোগিতা করেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। তারা সকলেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট রঞ্জিত সরকারের অনুসারি বলে জানা গেছে।

তারা হলো, সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া এবং রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুমকে ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ৮জনই বর্তমানে জেলহাজতে।
এ দিকে, চার্জশিটে অভিযুক্তরা কাদের সহযোগিতায় ছাত্রাবাস থেকে পালিয়েছে। পলাতক অবস্থায় তারা কাদের আশ্রয়ে ছিলেন এবং করোনা পরিস্থিতে বন্ধ থাকা ছাত্রাবাস তারা কাদের সহযোগিতায় দখল করে রেখেছিল এসব প্রশ্নের উত্তর পুলিশের দেওয়া হয়নি।

সুত্র জানায়, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিট এমসি কলেজ। নগরীর টিলাগড় এলাকায় কলেজটি থাকলেও ক্যাম্পাসের অদূরে বালুচর এলাকায় ছাত্রাবাসের অবস্থান। এছাড়া ওই এলাকায় রয়েছে সিলেট সরকারী কলেজ, সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয়, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ আরো কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার, দরপত্র কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা।

অভিযোগ রয়েছে, টিলাগড় এলাকার দুই আওয়ামী লীগ নেতার প্রশ্রয়েই বেপরোয়া এখানকার ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকা কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ ও তাদের উপ-গ্রুপ নানা অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের জন্ম দিয়েছে। ধারাবাহিক খুনোখুনি, ক্যাম্পাসে খাদিজা নামে এক ছাত্রীকে কোপানো ও ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগসহ সর্বশেষ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এই এলাকায়। এসব ঘটনায় টিলাগড় হয়ে ওঠেছে নগরবাসীর আতঙ্ক জাগানিয়া এক নাম। আওয়ামী লীগ নেতার মদদে ছাত্রলীগ কর্মীরা এসব অপকর্মে করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ধর্ষণের ঘটনার পর অভিযুক্তদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতাদের খোঁজে বের করার দাবি ওঠে।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *