খবর ডেক্সঃ-
অক্টোবর ২৭, ২০২১
৯:০৪ অপরাহ্ণ
ছাতকে বাতির আলী হত্যা,নিরীহ লোকজনকে আসামি করার অভিযোগ

ছাতকে বাতির আলী হত্যা,নিরীহ লোকজনকে আসামি করার অভিযোগ

সুনামগঞ্জের ছাতকে বাতির আলীর (৬০) হত্যা মামলা দায়েরের পর বনগাঁও গ্রামে অজানা আতংক বিরাজ করছে। হত্যা মামলায় অনেক নিরীহ লোকজনকে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। মামলা দায়েরের পর বনগাঁও গ্রামে চলছে সুনসান নিরবতা। অধিকাংশ বসতবাড়ী পুরুষ শুন্য। পুলিশের গ্রেফতার আতংকে এখন অনেকই আত্নগোপনে রয়েছেন। মামলার বাদী ও আসামী দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় চাঁপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনায় সাথে সম্পৃকতা নেই এমন নিরীহ লোকজনকে হত্যা মামলায় আসামী করায় এলাকায় আবারও সংঘাত-সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বাতির আলীর সাথে একই গ্রামের প্রতিপক্ষের সাথে জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিলো। গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যার পর স্থানীয় ইছামতি বাজার থেকে বাতির আলী বাড়ী ফেরার পথে গ্রামের মসজিদের পাশে প্রতিপক্ষের কয়েকজন তার উপর হামলা করে রাস্তায় ফেলে যায়। ওই হামলায় আহত বাতির আলীকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ হাসপাতাল ও পরে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যার পূর্বে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৭ অক্টোবর রাতে নিহত বাতির আলীর ছেলে লাল মিয়া বাদী হয়ে স্থানীয় বনগাঁও দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল হককে প্রধান আসামী করে গ্রামের ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনগাঁও গ্রামের একাধিক লোকজন বলেন, নিহত বাতির আলী পক্ষের লোকজন কিছুটা উশৃংখল প্রকৃতির। তাই এবিষয়ে গ্রামের নিশি কান্ত সিংসহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা এখন ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। গ্রামের মুরব্বী ছবুর আলী বলেন, মারপিঠের শেষ পর্যায়ে আমি মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষ করে বের ঘটনাস্থলে গ্রামের মো.ছালিক মিয়া, নুরুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন দেখতে পাই। পরে আহত বাতির আলীকে রাস্তা থেকে তুলে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার ৩নং আসামী আব্দুল হাই জানান,ঘটনার দিন আমি ও মানিক মামা মাছুম রেষ্ট হাউস ট্রাফিক পয়েন্ট ছাতক আবাসিক হোটেলের ১০৫ নং রুমে অবস্থান করছিলাম।ঘটনার পরের দিন আমরা বাড়িতে আসি।তিনি বলেন, ঘটনার সময় বাতির আলীর সাথে নিশি কান্ত সিং উপস্থিত ছিল।যখন বাতির আলীকে মারধর করা হয় তখন স্থানীয় মসজিদের মুসল্লী ছবুর আলী ও আব্দুস সালাম মোল্লা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।পরে নিশি কান্ত সিং আহত বাতির আলীকে মোটরসাইকেলে তুলে চিকিৎসার উদ্দেশ্য সেখান থেকে চলে যান। মূলত সেদিন কি ঘটেছিল তারাই ভালো বলতে পারবেন।কিন্তু বাদী পক্ষের লোকজন উদ্দেশ্যপ্রনীতভাবে ভিন্ন লোকজনকে সাক্ষী দিয়ে অযথা আমাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার ছেলে মুন্না সিলেটে লেখাপড়া করছে তাকেও আসামী করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে আমরা কোনোভাবে জড়িত নয়।

মামলায় অভিযুক্ত ১নং আসামী বনগাঁও দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সুপার মাওলানা সিরাজুল হক জানান,ঘটনার সময় আমি সিলেট থেকে বাড়িতে অবস্থান করছি।ঘটনার প্রকৃত সাক্ষী না দিয়ে অন্য সাক্ষী দিয়ে আমাকে মামলার ১নং আসামী করা হয়েছে।প্রতিপক্ষের অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে আমি সবসময় প্রতিবাদী ছিলাম । এ ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই।তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সময় উপস্থিত নিশি কান্ত সিং, ছবুর আলী, আব্দুস সালাম মোল্লা তাদের জিজ্ঞাসা করলে প্রকৃত আসামী বের হয়ে আসবে। এই মামলা থেকে অহেতুক ব্যক্তিদের অব্যাহতি দিয়ে প্রকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক মো.সামছুল আরেফিন বাতির আলী হত্যা মামলার বিষয়ে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন বেশ কয়েকজনকে হত্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *