আগস্ট ১০, ২০২০
১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

ছাতকে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত

খবর ডেস্কঃ- সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সন্ত্রাসীর ছুরিকাঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত ওই পুলিশ সদস্যের নাম হারুন অর রশীদ। তিনি উপজেলার নিজগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত জৈন উদ্দিনের ছেলে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাত ৯টায় উপজেলার ছনবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় হারুনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল হারুন অর রশীদের পরিবারের সাথে একই গ্রামের মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী কামরান মিয়ার জমি সংক্রান্ত চলছিল। রোববার রাত হারুনের চাচা বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন সদাই-পাতি করতে পাশ্ববর্তী ছনবাড়ী বাজারে যান। বাড়িতে ছুটি কাটাতে আসা পুলিশ সদস্য হারুনও সে সময় ওই বাজারে অবস্থান করছিলেন।

রাত ৯টার দিকে বখাটে যুবক কামরান এসে কামাল উদ্দিনের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু করে। বিষয়টি হারুনের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি এর প্রতিবাদ জানান। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে কামরান তার কোমরে থাকা ধারালো ছুরি বের করে হারুনের বুকে বসিয়ে দেয়। সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হারুন অর রশীদ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা।

এদিকে ঘটনার পরপরই পালানোর চেষ্টা করেন হামলাকারী কামরান। স্থানীয় জনতা তাকে ধাওয়া করলে দৌড়ে পালিয়ে নোয়াকুট বিজিবি ক্যাম্পে আশ্রয় নেন তিনি। এ সময় ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা কামরানকে আটক করে ছাতক থানা পুলিশকে খবর দেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, কামরানকে গ্রেপ্তারের জন্য নোয়াকুট বিজিবি ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে ছাতক থানার পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, হামলাকারী যুবক কামরান মিয়া এলাকার চিহ্নিত মোটরসাইকেল চোর ও মাদকসেবি। জোর করে অন্যের জমি দখলেরও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, পুলিশ সদস্যের উপর হামলার ঘটনায় নোয়াকুট বিজিবি ক্যাম্পে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। অলরেডি ছাতক থানা পুলিশের একটি টিম সেখানে পাঠানো হয়েছে। তারা গিয়ে হামলাকারীকে থানায় নিয়ে আসবে। আহত হারুনকে তার পরিবারের লোকজন ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলেও জানান  ওসি।

পরে পুলিশ সদস্য হারুনের ভাই মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, ‘বর্তমানে ভাইয়ার অবস্থা ভালো আছে। থানায় মামলা ও করা হয়েছে। সবাই আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *