জুলাই ২৮, ২০২০
৪:৪৪ অপরাহ্ণ

দোষী সাব্যস্ত মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক

নাজিব রাজাক
ফাইল ছবি

অর্থ কেলেঙ্কারির প্রথম মামলায় মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে দোষী সাব্যস্ত করছেন আদালত। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল (ওয়ানএমডিবি) অর্থ কেলেঙ্কারির মামলায় মঙ্গলবার কুয়ালালামুপরের উচ্চ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নাজিম মোহাম্মদ গাজ্জালি তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

বিচারক বলেন, “এ মামলার সমস্ত তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রসিকিউশন তাদের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।”

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মামলায় বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ সাত ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে।

রায়ের সবগুলো ধারাতেই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নাজিবের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ৪২ মিলিয়ন রিঙ্গিত স্থান্তরিত হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে সবগুলো অভিযোগই বরাবরের মতো অস্বীকার করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার আর্থিক উপদেষ্টারা তাকে বিভ্রান্ত করেছে।

এই রায়ের ফলে নাজিব রাজাকের ১৫-২০ বছরের সাজা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন নাজিব।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯ সালে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ওয়ানএমডিবি তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নাজিব। তবে বিনিয়োগের বদলে এই তহবিলের অর্থ বিলাসী জীবনযাপন, হলিউডের একটি চলচ্চিত্র ও একটি সুপারইয়টের পেছনে ব্যয় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে থাকা ৪২টি অভিযোগের মধ্যে অধিকাংশই ওয়ানএমডিবি সম্পর্কিত। এর কেন্দ্রে আছে ওয়ানএমডিবির একটি ইউনিট এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে নাজিবের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চার কোটি ২০ লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

এ মামলায় অর্থ পাচারের তিনটি, শপথ ভঙ্গের দায়ে তিনটি ফৌজদারি অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। রায়ে এর সবগুলো ধারাতেই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া নাজিবের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও অনেক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলছে।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *