নভেম্বর ১৬, ২০২০
৫:৩২ অপরাহ্ণ

প্রতিদিনের ৯ ঘণ্টার বাজারে কোটি টাকার লেনদেন

খবর ডেক্সঃ- সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় সবজির আড়ৎ বিশ্বরোড চালিবন্দরের ট্রেড সেন্টার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন পঞ্চাশ থেকে ষাটটি ট্রাকভর্তি সবজি এই বাজারে আসে। ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হয়ে দুপুরের আগে শেষ হয়ে যায় বাজারের সব মুখরতা। তারপর শুরু হয় হিসেব-নিকেষ। মাত্র আট থেকে নয় ঘণ্টার এ আড়তে প্রতিদিন কোটি টাকার উপরে লেনদেন হয়।
কারো কাছে ভোরের বাজার, কারো কাছে ভেজিটেবল মার্কেট হিসেবে পরিচিত সিলেট ট্রেড সেন্টার। ২০০৩ সালে প্রায় ৬০টি ঘর নিয়ে এ বাজারের যাত্রা শুরু হয়। যাবতীয় কাঁচামালের আড়ৎ হিসেবে এ বাজারের সুনাম শুধু সিলেট বিভাগ নয়, দেশজুড়ে রয়েছে। এ বাজারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভোর থেকে বেঁচাকেনা। ফজরের নামাজের পর থেকে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা ভিড় জমান সেখানে। দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা তাদের নিজস্ব গাড়ি নিয়ে বাজারে ভোর থেকে অবস্থান করেন। প্রয়োজনীয় মালামাল লোড করে আবার ফিরে যান নিজ নিজ গন্তব্যস্থলে। তবে যাবতীয় শাক-সবজি ছাড়াও এ আড়তে অন্যসব পাকা মালামালও পাওয়া যায়।
সিলেট ট্রেড সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদ মিয়া জানান, রাজশাহী, বগুড়া, যশোর. কুষ্টিয়া, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, খাগড়াছড়িসহ দেশের প্রায় অধিকাংশ জেলা এবং বিভাগীয় অঞ্চল থেকে সবজি এ আড়তে আসে। একইসাথে আসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যসব জিনিসপত্রও। প্রতিদিন শেষরাতের দিকে চালিবন্দরের এ পাইকারি আড়তের চারপাশে থাকে ট্রাকের দীর্ঘ সারি। তারপর রাত থেকেই মালামাল নামানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন শতাধিক শ্রমিক। ফজরের আজানের আগে মোটামুটি সবজিগুলো নামানোর কাজ শেষ হয়ে যায়।
তারপর শুরু হয় ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। সকাল হওয়ার সাথে সাথে বেড়ে যায় ব্যস্ততা, দোকানে দোকানে ছুটাছুটি। সিলেটসহ সুনামগঞ্জ, দিরাই, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, জাফলংসহ বিভিন্ন উপজেলার সবজি ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় মালামাল কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সেখানে। তখন তিল ধারণের ঠাঁই থাকেনা।’ তবে এই ব্যস্ততা আট থেকে নয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়। কারণ যারাই আড়তে আসেন তাদের মধ্যে-আগে আসলে আগে যাবার প্রবণতা থাকে। কারণ, এই মালামাল নিয়ে তারাও নিজ নিজ বাজারে গিয়ে আবার পসরা সাজিয়ে বসেন।
বৃহৎ এ আড়তে বিভাগের বড় ব্যবসায়ী ছাড়াও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ভিড় জমান ভোরবেলা। যারা সেখান থেকে সবজি কিনে শহরের বাসাবাড়ি সেগুলোতে ফেরি করে বিক্রি করেন। ট্রেড সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদ মিয়া আরো জানান, ‘প্রতিদিন অন্ততঃ ১৫শ’ ভ্যানগাড়ি নিয়ে আড়তে আসে, যারা এখান থেকে সবজি ক্রয় করে বাসাবাড়িতে গিয়ে বিক্রি করে। তিনি জানান, বাজারে পঞ্চাশটির অধিক বড় ঘর রয়েছে। প্রতিদিন একেকটি ঘরে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার লেনদেন হয়।’
আড়তের মেসার্র্স তাছরিক ট্রেডার্স’র মো. বাচ্চু জানান, ‘আমাদের আড়তের বড় বৈশিষ্ট্য দাম কম এবং দরকষাকষির কোনো সুযোগ নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনোদিন দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা আবার অনেক সময় এর বেশীও বিক্রি হয়।’ মেসার্স মুন বাণিজ্যালয় এর রিয়াজুল ইসলাম রিপন জানান, ‘গতকাল রোববার তার দোকানে পৌণে চার লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। তবে সবসময় এমন হয়না, সেটি তিনিও বলেছেন। তিনি জানান, বাজারে বড় পাইকারি ঘর ৫০ থেকে ৬০টি থাকলেও ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিক দোকান রয়েছে আড়তের ভেতর এবং বাইরে।’

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *