নভেম্বর ২২, ২০২০
৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

বাঘের পেছনে ফেউ; করোনার দ্বিতীয় ঢেউ!

খবর ডেক্সঃ- ‘পদ্মার ঢেউরে, মোর শূন্য এ হৃদয় পদ্ম নিয়ে যা, যা-রে’ নজরুলের একটি বিখ্যাত গানের প্রথম কলি এটি। ফেরদৌসী রহমানের কণ্ঠে এ সুমধুর সঙ্গীত অনেকেই শুনেছেন। তবে আমরা যে ঢেউ নিয়ে আলোচনা করছি, তা পানির ঢেউ নয়, মহামারী সংক্রমণের ধাক্কা। এটা পদ্মার ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বড় বিপদ ডেকে আনে।

করোনা মহামারী চলছে ২০২০ সালের শুরু থেকেই। এখন বছর শেষের দিকে। বাংলাদেশে এর সূচনা বিগত মার্চে। এর মধ্যে করোনার তাণ্ডব কিছুটা কমেছিল। তবে আসন্ন শীত যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে এর প্রকোপ এবং তা নিয়ে মানুষের শঙ্কা। অন্য দিকে করোনার সংক্রমণ এবং এতে মৃত্যু না থামলেও মানুষের ভ্রমণ ও বিনোদন প্রবণতাও থামছে না। বর্তমান এ পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য পাতার একটি গল্পে। লেখকের ভাষায়, ‘পতেঙ্গার সমুদ্রসৈকত লোকারণ্য। করোনা এখনো বিদায় হয়নি। টিকা কখন আবিষ্কৃত হবে, তা বোধহয় বিজ্ঞানীর চেয়ে জ্যোতিষীরা ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু মানুষের আচরণে একটা ‘মরলে মরছি’ ধরনের বেপরোয়া ভাব এসে পড়েছে।

নইলে ঘরে বসে যাদের দিন গোনার কথা, তারা সমুদ্রের ঢেউ গুনতে এসেছে কেন!’ তবে বাহ্যিকভাবে জীবনযাত্রা যতই স্বাভাবিক ও কর্মচঞ্চল মনে হোক, প্রতিদিনই কোভিডে মানুষ মরছে। শীত যত বাড়বে, ততই এর তাণ্ডব বাড়বে বলে ডাক্তাররাও আশঙ্কা করছেন।

এ অবস্থায় কথা হলোÑ সত্যিই কি করোনার এ ঢেউ দেশে হানা দেবে? না কি দেবে না? এ দিকে পত্রিকা বলছে, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে করোনার তৃতীয় ঢেউ চলছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কি দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে? বিখ্যাত বুদ্ধিজীবী ড. রওনক জাহানের মতো অনেকে মনে করছেন, ‘হঠাৎ করোনার নয়া ঢেউ শুরু হবে প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ না দিয়েই।’ এমনিতেই বাংলাদেশে করোনায় মৃতের যে সংখ্যা তুলে ধরা হচ্ছে, তাতে আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা নেই। বরং বিশ্বে সুপরিচিত, বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘ল্যানসেট’ বলেছে, আসলে বাংলাদেশে ঘোষিত সংখ্যার চার গুণ মানুষ কোভিডে প্রাণ হারাচ্ছে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ জাতীয় অর্থনীতির ওপর আগের চেয়ে বড় আঘাত হানতে পারে। এই হুঁশিয়ারি দিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, ‘বৃহত্তর স্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়ির সাথে মেনে চলার বিকল্প নেই।’
অন্য দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি প্রফেসর কামরুল হাসান খানের মতে, শীতে করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর কারণ রয়েছে। তিনি বলেছেন, বিশ্বখ্যাত জার্নাল ‘ফোর্বস’-এর গত ১০ অক্টোবর সংখ্যায় স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ব্রুস ওয়াই লি করোনার সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউয়ের অন্তত আটটি কারণ জানিয়েছেন। এর মধ্যে আছে, ক. কম আর্দ্রতা ও কম তাপমাত্রা; খ. ব্যবসায়-বাণিজ্য আবার চালু হয়ে যাওয়া; গ. স্কুল আবার খুলে দেয়া; ঘ. বাইরের লোকসমাগম এখন ঘরের ভেতর পরিলক্ষিত হওয়া; ঙ. ইনফ্লুয়েঞ্জা ও শ্বাসতন্ত্রের নানান অসুখ-বিসুখ; চ. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় গণমানুষের সচেতনতার অভাব; ছ. প্রচারণায় বিভ্রান্তি এবং জ. জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয়হীন পরিকল্পনা।
আমাদের এ দেশে যদিও তাপমাত্রা শীতকালেও বরফ পড়ার পর্যায়ে নেমে যায় না এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলেনি, তবে উল্লিখিত অন্যান্য কারণ এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বৈকি। কারণ, বিশ্বের বহু দেশের মতো বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে গেছে। এ দিকে মাস্ক পরাসহ জরুরি স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষের আগ্রহের অভাব ব্যাপক ও ক্রমবর্ধমান। অন্য দিকে শীতের সময়ে বেড়ে যাচ্ছে ধূলিদূষণ ও শ্বাসতন্ত্রের রোগব্যাধি। আর বিভ্রান্তিকর নানান প্রপাগান্ডার সাথে জাতীয় পরিকল্পনার হ-য-ব-র-ল দশার কথা সবার জানা।
স্মর্তব্য, শতবর্ষ আগে ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু এবং এখন থেকে এক দশক আগের এইচ ১ এন ১ ফ্লু শীতকালে দ্বিতীয় ঢেউ তুলে ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। সে কথা ভুলে গেলে পস্তাতে হবে।
কথায় বলে, ‘মাঘ মাসের জাড়ে;/বনের বাঘও মরে।’ এবার ভয় হচ্ছে, বনের পশুর আগেই মানুষের প্রাণহানি বেড়ে যায় কি না। কারণ করোনার শিকার হচ্ছে প্রধানত মানুষজনই। এখন অগ্রহায়ণ মাস। এ বছর শীত গতবারের চেয়ে বেশি পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ঠাণ্ডা জেঁকে বসতে পারে। অতীতেও অনেক সময়ে নভেম্বরের প্রথম থেকে শীতের আবহ দেখা গেছে পুরোপুরি। পাশ্চাত্যে যে শীত নেমেছে, তা টিভির পর্দায় প্রতিনিয়ত প্রমাণিত হচ্ছে। সোয়েটার তো বটেই, লং কোট-জ্যাকেট-মাফলার পরেও শীত মানানো যাচ্ছে না।

শীতের সময়ে করোনা মহামারী কেন বাড়ছে? এর কারণÑ ১. শীতপ্রধান দেশগুলোতে এ সময়ে নাকসহ শ্বাসনালীর পর্দা শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে করোনাভাইরাস দ্রুত পর্দা ভেদ করতে সক্ষম হয়; ২. বছরের অন্য সময়ের মতো শীতকালে এ পর্দা নাক ও শ্বাসনালীর বালু, ময়লা, জীবাণু ইত্যাদি পরিষ্কার করতে পারে না; ৩. শীতের সময়ে ভাইরাসযুক্ত বালুকণা বাতাসে অধিকক্ষণ ভাসে। ফলে বেশি মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন; ৪. শীত ঋতুতে ফ্লু, শ্বাসনালী ও ফুসফুসের রোগ, শিশুদের অসুখ-বিসুখ ইত্যাদি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এতে মা

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *