নভেম্বর ২৪, ২০২০
৬:২৪ অপরাহ্ণ

বাহুবলে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

খবর ডেক্সঃ- হবিগঞ্জের বাহুবলে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দেবরসহ শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের উপর। সোমবার সকালে ওসমানী হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যুর কথা জানায় দেবর জানে আলম। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে রাতে লাশ দাফন করা হয়েছে। খবর পেয়ে সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার মির্জাটুলা গ্রামে থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও ওসি তদন্ত আলমগীর কবীর, সেকেন্ড অফিসার শাহ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা যায়, বাহুবল উপজেলার মির্জাটুলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুরুল ইসলামের মেয়ে তানিয়া আক্তার (২২) এর সাথে তিন বছর পূর্বে বিয়ে হয় একই উপজেলার ফদ্রখলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহ আলমের সাথে। বিয়ের পর তাদের কোলজুড়ে আসে একটি পুত্র সন্তান। সুখেই যাচ্ছিল তানিয়ার দাম্পত্য জীবন। কিন্তু সুন্দরী তানিয়ার প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে দেবর জানে আলমের।

জানে আলম দুই সন্তানের পিতা। সেও সৌদি প্রবাসী। করোনার আগে দেশে আসলে সে আর সৌদি পাড়ি দিতে পারেনি। তার কু নজর পড়ে সুন্দরী বড় ভাইয়ের স্ত্রী তানিয়ার প্রতি। তানিয়াকে প্রায়ই সে উত্যক্ত করত। তানিয়া শ্বশুর শ্বাশুড়ীকে বিষয়টি বার বার জানালেও তারা কোন কর্নপাত করেনি। জানে আলমের স্ত্রীকেও বিষয়টি জানায় তানিয়া। এ নিয়ে জানে আলমের সাথে তার স্ত্রীর ঝগড়াও হয়। স্ত্রী নিষেধ করলেও তার নিষেধ মানেনি জানে আলম। বিষয়টি ছড়িয়ে পরে পুরো গ্রামে।

এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে জানে আলম। প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে সে। রোববার দিবাগত রাতে দরজার লক ভেঙ্গে তানিয়ার রুমে প্রবেশ করে তানিয়াকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে জানে আলম। এক পর্যায়ে তানিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়।

রাতে তানিয়ার ছোট ভাই তানভীরকে ফোন দেয় জানে আলম। ফোন দিয়ে বলে, তার স্ত্রী অসুস্থ একটি সিএনজি নিয়ে আসতে। সে সিএনজি নিয়ে জানে আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখে তার স্ত্রী নয়, তানভীরের বোন অসুস্থ অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে। পরে তাকে হবিগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সে বিষ পান করেছে বলে ভর্তি করায় তানিয়ার শ্বশুরবাড়ীর লোকজন।

নিহত তানিয়ার মামা আব্দুর রহিম জানান, তানিয়াকে ধর্ষণ করে মুখে বিষ ঢেলে গলা টিপে হত্যা করে জানে আলম। এর সাথে জড়িত তার শ্বশুরবাড়ীর লোকজনও। আমরা লাশের ময়নাতদন্ত করিয়েছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার বেলা ১টা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম আলম চৌধুরী ও বাহুবল মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রয়েছেন। বাহুবল মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, সে বিষপান করে মারা গেছে।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *