নভেম্বর ১২, ২০২০
১:২৫ পূর্বাহ্ণ

ভাটরাই স্কূল এন্ড কলেজের সীমানা নির্ধারণ জটিলতায় বন্ধ বাউন্ডারি নির্মাণ কাজ

উত্তর সিলেটের প্রাচীন বিদ্যাপীট ভাটরাই উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৫৭ সালে যাত্রা শুরু করে। মরহুম আব্বাস আলী, হাজী মোতালিব, হাজী মুজেফর আলীর ভূমিদানে মাধ্যমে যাত্রা শুরু প্রতিষ্ঠানটির। প্রতিষ্ঠান মোট ভূমির পরিমাণ ১ একর ৬০ শতক। জরাজীর্ণ টিনশেডের শ্রেণীকক্ষের মধ্য দিয়ে স্বল্প কিছু ছাত্র দিয়ে জুনিয়র স্কূল হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও অনেক ত্যাগ তিতীক্ষা হোঁচট খেতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এমনকি স্বাধীনতার পূর্বে কিছুদিন প্রয়োজনীয় শিক্ষক-ছাত্র অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় কয়েক বছর শিক্ষার প্রসার ব্যাহত হয়েছে।

বলাবাহুল্য স্কূলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অবকাঠামো উন্নয়ন ভূমিকায় আরেক নক্ষত্র ছিলেন মরহুম ছিফত উল্যাহ। তার পুত্র সদ্যপ্রয়াত ভাটরাই স্কূল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হক (হেডস্যার) আশির দশক থেকে স্কূলের হাল ধরে তিলে তিলে মেধা, শ্রম, যৌবন, এমনকি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছেন। কালেভদ্রে তা আজ স্কূল এন্ড কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও স্বনামধন্য এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমি সংক্রান্ত সীমানা নির্ধারণ জটিলতায় মূখ থুবড়ে পড়ে আছে উন্নয়ন অগ্রগতি সীমানা প্রাচীর, বাউন্ডারি নির্মাণ। যা বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সুখকর নয় বলে মন্তব্য এলাকার সুশীল সমাজের।

প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ছাত্র সাংবাদিক মইন উদ্দিন মিলনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিগত প্রায় ১০ বছর যাবৎ এই অচলাবস্থা বিরাজমান। প্রতিষ্ঠাতা হাজী আব্বাস আলীসহ অন্যান্য ভূমিদাতার মোট ১ একর ৬০ শতক বর্তমান স্কূলের পশ্চিমে মরহুম হাজী আব্দুল আজিজ (ফুরু হাজী) এর বাড়ীর বিভিন্ন দাগে বর্ণিত ছিল। স্কূলটির আনুষাঙ্গিক সুবিধার্তে বর্তমান স্থলাভিষিক্ত জায়গায় ১৩৬ শতক ভূমি অদল বদল হয় ১৯৮৬ ইং সনে। বাকী ২৪ শতক ভূমি মরহুম হাজী আব্দুল আজিজ বর্তমান স্কূল সংলগ্ন পূর্ব সীমানায় দানপত্র দলিল করে সমজিয়ে দেন। এতে ভূমিদাতার উত্তরাধিকারীগণ ভিন্নমত পোষণ করেন। তাদের বক্তব্য হলো তৎকালীন সময়ে স্কূলের সুবিধার্তে ১ একর ৬০ শতকের স্হলে ১ একর ৩৬ শতক সমজিয়ে নেয় স্কূল কতৃপক্ষ। তাছাড়া পরবর্তীতে মরহুম হাজী আব্দুল আজিজ এর দানপত্র দলিলমূলে ২৪ শতক ভূমির অংশ মূলত দানপত্রকারীর অংশে ৫ শতক। মূলত এ কারণেই প্রথমে মৃদুযুদ্ধ, আইনী মারপ্যাচে ভূমিদাতার উত্তরাধিকার ও স্কূল পরিচালনা কতৃপক্ষ বিগত বছর দশক ধরে দেনদরবার। বারংবার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল বাছিরসহ গণ্যমান্যদের সালিসি বৈঠক, স্কূলের দাপ্তরিকভাবে রেজুলেশন তৈরিসহ বাস্তবায়নে একে অপরকে দোষারোপ করেন। বিষয়টি সূরাহা না হওয়ায় সর্বশেষ আদালতে চলছে দুটি মামলা। যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো উন্নয়ন অগ্রগতিতে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিচালনা কমিঠির সভাপতি মোহাম্মদ আলী দুলালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাটরাই স্কূল এন্ড কলেজের পরিচালনা কমিঠির সভাপতি হিসেবে ২০১২ সাল নাগাদ দায়িত্ব পাওয়ার পর কলেজে রুপান্তর, সীমানা বাউন্ডারী নির্মাণ বিষয় ও পরীক্ষা কেন্দ্রস্হাপনসহ প্রাণপণ কাজ করেছি। যা এলাকার সর্বস্হরের জনগণ অবহিত। বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে আমি বারংবার ভূমিদাতার উত্তরাধিকারী এডভোকেট বদরুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করেছি কিন্তু ন্যায় সঙ্গত কোন সমাধানে রাজি হননি বরং স্কুল কতৃপক্ষের উপর দুই দুইটি মামলা আদালতে দায়ের করেছেন। তাছাড়া আরো দুইটি মামলা আদালতে দায়ের করেছেন এডভোকেট বদরুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যানুসারে বিগত ২০১৫ সালের সালিসি বৈঠকে বিরোধপূর্ণ ভূমিসংক্রান্ত বিষয়ের আলোকে দাতা সদস্য অন্তর্ভুক্তকরণ রেজুলেশন বাস্তবায়ন কেন হলোনা এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে সভাপতি মোহাম্মদ আলী দুলাল বলেন, দাতাসদস্য অন্তর্ভুক্তকরণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে ঠিক কিন্তু আমরা স্কূলকতৃপক্ষ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বলেছি চলমান মামলার দুপক্ষের উকিল মারফত সৃষ্ঠ জটিলতা আইনসিদ্ধ করে বিধিমোতাবেক দাতা সদস্য হতে আমার কোন আপত্তি নেই।

ভূৃমিদাতার উত্তরাধিকারী সংশ্লিষ্ঠ কর্মকান্ডে জড়িত এডভোকেট বদরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ভাটরাই স্কূল এন্ড কলেজের ভূমিসংক্রান্ত ও সীমানায় বাউন্ডারি নির্মাণ প্রসঙ্গে স্হানীয়দের সাথে আলাপ করলে বিস্তারিত ঘঠনা জানা যাবে। কারণ আমিতো এলাকায় থাকিনা প্রতিবেদক আবারো স্টারম্যান উল্লেখ করে এ বিষয়ে কিছুটা অভিব্যক্তি প্রকাশ করার অনুরোধ করলে তিনি সরাসরি টেবিল বৈঠকে বসলে বিস্তারিত বলবেন বলে আমন্ত্রণ জানান।

স্হানীয় ইউ/পি সদস্য আনিসুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ ভাটরাই উচ্চ বিদ্যলয় ও কলেজের ভূমিসংক্রান্ত ও সীমানার বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কয়েকবার সালিশ বৈঠকে বিরোধপূর্ণ ভূমির মালিক আমার চাচা মরহুম হাজী আবদুল আজিজের উত্তরাধিকারী, বাবা সাবেক মেম্বার হাজী আব্দুল মছব্বিরসহ গংরা বিরোধপূর্ণ ভূমির স্হায়ী সমাধানে যেকোন সময় রাজী তবে বিগতদিনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আপোষ নিষ্পত্তির আলোকে ২০১৫ সালের রেজুলেশনের বাস্তবায়নের প্রতি ঈঙ্গিত দেন।

তৎকালীন সালিসি বৈঠকের প্রধান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল বাছিরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টা অনেক পুরানা যা আদালতে মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়িয়েছে। আমি অনেক চেষ্টা করেছি স্কূলটির স্বার্থে দুইপক্ষকে বুঝিয়েছি সমাধানও করেছিলাম কিন্তু কে কার কথা শুনে? তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, মোহাম্মদ আলী দুলাল ও এডভোকেট বদরুল আলম এলাকার জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি হয়েও ওরা বুঝলনা! তারপরেও সমাধান হউক বিষয়টি এটাই কামনা।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *