মোঃ আব্দুল মালেক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
অক্টোবর ১, ২০২১
৫:২৯ অপরাহ্ণ
রাণীনগরে সিসা তৈরি কারাখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বাগানের ৪০ টন পেয়ারা নষ্টের অভিযোগ

রাণীনগরে সিসা তৈরি কারাখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বাগানের ৪০ টন পেয়ারা নষ্টের অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের ২নং স্লুইচ গেট এলাকায় অবৈধ সিসা তৈরি কারাখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বাগানের প্রায় ৪০ টন পেয়ারা নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। বিষাক্ত ওই ধোঁয়ায় এলাকায় কয়েকটি গরুও মারা গেছে। এলাকাবাসির অভিযোগ, উন্মুক্ত স্থানে অবৈধ কারখানার ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিলেও প্রসাশনের কর্তারা দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। ফলে পরিবেশ ও চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং ক্ষতির মূখে পরেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার রাণীনগর-বান্দাইখাড়া প্রধান সড়কের ২নং স্লুইচ গেটের পার্শ্বে অবৈধভাবে একটি উন্মুক্ত কারখানা স্থাপন করে পুরাতন ব্যাটারি পুরে সিসা তৈরির কাজ করে আসছে একটি চক্র। বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরাতন ব্যটারি কিনে গাড়ী ভর্তি করে নিয়ে এসে সন্ধ্যার পর থেকেই সেখানে সারারাত চলে আগুনে পুড়িয়ে সিসা তৈরি কাজ। তবে সকাল হওয়ার আগেই সম্পন্ন কার্যক্রম শেষ করে চলে যান ওই চক্রটি। ব্যাটারির আ্যাসিডের বিষাক্ত ধোঁয়া এবং দূর্গন্ধে পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই স্থানের পার্শ্বেই প্রায় পাঁচ হাজার বিভিন্ন ফলজ গাছের বাগান রয়েছে। সেখানে বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাবে এসব বাগানে ফল কালো হয়ে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গাছপালার পাতা বির্বণ হয়ে মরে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, কারখানার আশে পাশে স্থানীয়রা গরু চড়াতে এসে ঘাষ খাওয়ার পর ওই এলাকার প্রায় ৪ টি গরুও মারা গেছে। তবে এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করেও কোন ফল হচ্ছেনা। এমনকি প্রসাশনের লোকজনও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।

বাগান ও প্রজেক্ট মালিক আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল জানান, তার জন্মস্থান রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভাতঘর পাড়া গ্রামে। তিনি ব্যবসা করার জন্য গত দুই বছর আগে এই এলাকায় এসে জমি কিনে এবং লিজ নিয়ে একই স্থানে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে ৯ টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে আসছেন। পাশা-পাশি পুকুর পার জুড়ে গড়ে তুলেছেন ফলজ বাগান। তার বাগানে প্রায় সাড়ে ১২ শত থাই পেয়ারা, আড়াইশত আম, একশত বেদেনা, আড়াই হাজার লেবু এবং বেশ কিছু কলা গাছ রয়েছে। এসব গাছে ফল আসতে শুরু করলে ফল বড় না হতেই সিসা তৈরি কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাবে সবগুলো ফল কালো হয়ে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, এপর্যন্ত ৪০ টনেরও বেশি পেয়ারা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বেদেনা, আম, কলা, লেবুসহ বিভিন্ন জাতের লাখ লাখ টাকার ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকবার কারখানার মালিককে বলেও কোন ফল হয়নি।

কালিকাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন বলেন, কারখানার পার্শ্বে চরে ঘাস খাওয়ার কারনে তার একটি গরুও মারা গেছে। এছাড়া এই এলাকার আরো তিনটি গরু মারা গেছে।

এদিকে অভিযুক্ত ওই কারখানার নিদিষ্ট মালিকের নাম বা খোঁজ না পাওয়ায় এবং সিসা তৈরির চক্রটির কোন লোকজনকে না পাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, সিসা তৈরি কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রচুর পরিমানে কার্বোণ থাকে। ফলে ধোঁয়ার প্রভাবে ফল কালো হয়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়। ইতি মধ্যে আমি এই কারখানা বন্ধের জন্য থানার ওসি সাহেবকে বলেছি।

রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন বলেন, সিসা তৈরির বিষাক্ত ধোঁয়ায় মানব দেহে স্বাসতন্ত্রে প্রদাহ এবং ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়া পশু-পাখি এবং গাছপালার মারাত্বক ক্ষতি হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ব্যটারি পুরে সিসা তৈরি কারখানার কথা শুনেছি। কারখানা বন্ধে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *