মোঃ আব্দুল মালেক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নভেম্বর ৩, ২০২১
৩:৫১ অপরাহ্ণ
রাণীনগরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ; মোটরসাইকেল ভাঙচুর

রাণীনগরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ; মোটরসাইকেল ভাঙচুর

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে নৌকা প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তাদের মারপিটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ২০ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৮-১০ জনকে নওগাঁ ও আদমদীঘি হাসপাতালে করানো হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যক্তিগত অফিসের সামনে থাকা ১৪ টি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করেছে বলেও অভিযোগ করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এদিকে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা প্রার্থী বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা আমার সমর্থক ও দলীয় লোকজনকে উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে ৮-১০ জনকে আহত করেছেন। এছাড়া ভাঙচুর করেছে ৩-৪ টি মোটরসাইকেল। তারা নিজেরাই এসব ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের উপরে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার একডালা ইউপির আবাদপুকুর বাজারের চারমাথায় এ হামলা, মারপিট ও ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

একডালা ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, আমি ও আমার সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় প্রচারণা শেষ করে ব্যক্তিগত আফিসে আসার সাথে সাথে নৌকা প্রার্থী ও সমর্থকরা আমাকেসহ আমার লোকজনের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে রড়, লাঠি, জিয়াই পাইপ দিয়ে মারপিট শুরু করেন। এ সময় আমার অফিসের সামনে থাকা ১৪ টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে এবং তাদের মারপিটে আমার ২০ জন লোক আহত হয়েছেন। আমি এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করেছি। এ ঘটনায় সুষ্ট বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে একডালা ইউপির নৌকা প্রার্থী শাহজাহান আলী বলেন, আমি ও আমার লোকজন শিয়ালা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে আবাদপুকুর চারমাথা দিয়ে গুয়াতা গ্রামে প্রচারণা চালানোর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা আমাদের বাধা প্রদান করে এবং আমার লোকজনকে দেখে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করছিলেন। সেখানে অঘটন ঘটতে পারে এমন অশংঙ্কায় আমি আর প্রচরাণায় না গিয়ে আমার অফিসের দিকে ফিরে যাই। এমতাবস্থায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকরা আমার লোকজনের সাথে তর্কে জরায় এবং একজেনর গাড়িতে লাথি মাড়লে কয়েক জনের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে আমার ৮-১০ জন লোক আহত হয়। এসময় আমার লোকজনের ৩-৪ টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনরা নিজেরাই তাদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে সেই দোষ আমার ও কর্মীদের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি শাহিন আকন্দ বলেন, ঘটনাটি জানার সাথে সাথে দ্রুত সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। একটি সুন্দর ও উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিতের লক্ষে পুলিশ বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। আবাদুপুকুরের ঘটনায় কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন ও রির্টানিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটি জানার সাথে সাথে আমি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। স্বতন্ত্র প্রার্থী রুহুল আমিনের কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ক্ষতিয়ে দেখছেন।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *