ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
জানুয়ারি ২৪, ২০২২
৮:৪৮ অপরাহ্ণ
রাণীশংকৈলে বিধিনিষেধ উপেক্ষিত, বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

রাণীশংকৈলে বিধিনিষেধ উপেক্ষিত, বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

দেশে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার থেকে সারাদেশে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। কিন্তু এরপরও ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে মানুষের মধ্যে উদাসীনতা দেখা গেছে। হাটবাজারগুলোতে মানুষ সামাজিক দূরত্ব না মেনেই করছে চলাচল। অনেকেই পরছেন না মাস্ক। আবার যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই নিয়ম মেনে তা ব্যবহার করছেন না।

উপজেলার ধর্মগড় এলাকা থেকে নেকমরদে রোববার হাটে এসেছিলেন ফাতেমা, হালিমা, সুলতানা ও মনিকা। তাদের কারো মুখে মাস্ক নেই। তারা বলেন, আমরা মাস্ক পরতে সময় পাই না। মাস্ক পরলে দম বন্ধ হয়। হাটে এসেসছি, এখনই চলে যাব।

এদিকে ঠাকুরগাঁও দিন দিন সংক্রমণ বেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাণীশংকৈল উপজেলার অধিকাংশ মানুষকে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। রাণীশংকৈলে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আটজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে কেউ মারা যাননি।

স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে, ২০২০ সালের ১১ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। ওই বছর জেলায় ৮ হাজার ১৫৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ৪৮১ জনের শরীরে করোনা পাওয়া যায়। শনাক্তের হার ছিল ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২৯ জন।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও থেমে নেই কোচিং সেন্টার ও মাদ্রাসার কার্যক্রম। প্রতিদিন সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ছুটছে কোচিং সেন্টার ও মাদ্রাসায়। এসব শিক্ষার্থীর মুখে থাকছে না মাস্ক এবং তারা মানছে না শারীরিক দূরত্ব।

প্রশাসনের লোকজন দেখলে কেউ কেউ আড়ালে যাচ্ছেন, আবার কেউ পকেটে থাকা মাস্ক পরছেন।

রাণীশংকৈলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সামাদ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে আমরা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তাৎক্ষণিক করোনার ফলাফল জানতে অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। এত সুবিধা থাকার পরও মানুষ সচেতন হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোহেল সুলকান জুলকার নাইন কবির স্টিভ জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো কঠোর হবো।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *