সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০
১০:৫৭ অপরাহ্ণ

সামাজিক অন্দোলনের অগ্রদূত চেতনার বাতিঘর:- প্রভাষক সৈয়দ আয়েশ মিয়া

বিশ্ব মানবতার কল্যাণে নিবেদিত জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন ‘‘ইউনাইটেড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট’’ বর্ণাঢ়্য ইতিহাস ঐতিহ্যের অধিকারী একটি আদর্শ সামাজিক সংগঠন। আধুনিক উচ্চ শিক্ষায় সু-শিক্ষিত একঝাঁক তরুণদের নেতৃত্বে, নিরলস প্রচেষ্ঠা এবং প্রাণান্তকর পরিশ্রমের ফলে সংগঠনটি সম্পুর্ণ রাজনীতি মুক্ত থেকে হাটি-হাটি পা-পা করে সংগঠনটি তার সু-মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং কার্যাবলিকে বাস্থবায়িত করে ইতিমধ্যে সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ জনপ্রিয় ও কার্যকরী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

২০০৮ সালের ১লা জুন সংগঠনটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বরেণ্য শিক্ষাবিদ- রাজনীতিবিদসহ সুশীল সমাজের সু-চিন্তিত পরামর্শ ও দিক-নিদের্শনার আলোকে সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহে শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ আর্ত-মানবতার সেবায় গৌরবজ্জল অবদান রাখছে। বর্তমানে সংগঠনটি তার সু- মহান লক্ষ্যে- উদ্দেশ্য ও কার্যাবলিকে সিলেট বিভাগ ছড়িয়ে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও পৌছে গেছে। সর্বোপরি, বর্তমান বিশে^র প্রায় ১৮টি দেশে প্রবাসি কমিটি গঠন করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে শিক্ষা, সাহিত্য- সংস্কৃতিসহ আর্ত-মানবতার সেবায় গৌরবোজ্জল ভূমিকা রাখছে। মোট কথা, বিশ্ব মানবতার কল্যাণে সংগঠনটি নিরলসভাবে যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমুহ : –
ক. পারস্পরিক সহযোগিতা-সহমমির্তার পরিবেশ সৃষ্টি করে সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা।
খ. শিক্ষার আলো বিস্তারের মাধ্যমে আলোকিত ও উন্নত সমাজ গঠনে অবদান রাখা।
গ. সাধ্যমত গরীব-দু:খী তথা অসহায় মানুষের সেবা করা।
ঘ. অপসংস্কৃতির মূল্যৎপাঠন করে সুস্থ সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা করা।
ঙ. নিজের বিবেকবোধকে জাগ্রত করে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা আন্তজার্তিক পরিমন্ডলে অবদান রাখা।
চ. যুগের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে বিশ্ব সু-নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা।
ছ. সর্বোপরি, বিশ্ব মানবতার কল্যাণে যথাসাধ্য নিজেকে নিয়োজিত রাখা।

ইউনাটেড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট এর কার্যক্রম সমূহ :-

ইউনাটেড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট বৃহৎ আদর্শ, সামাজিক সংগঠন। মানুষের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা তথা বিশ্ব মানবতার কল্যাণে সংগঠনটি ২০০৮ সালের ১লা জুন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংগঠনটি কার্যক্রম সমূহ নিম্নরূপ:
১। শিক্ষামূলক কাজ :
বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রদান এবং গরিব ও মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীদের সাধ্যমত শিক্ষা উপকরণ বিতরণ (বই, পুস্তক, খাতা, কলম, স্কুল ব্যাগ ইত্যাদি।)
২। সাহিত্য-সংস্কৃতিমূলক কাজ :
ম্যাগাজিন প্রকাশনা , ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ, কবিতা আবৃত্তি, সাহিত্য চর্চা, কুইজ
প্রতিযোগিতা ও বির্তক প্রতিযোগিতা ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়।
৩। আর্ত- মানবতার সেবা :
সাধ্যমত সমাজের অসহায় গরিব দু:খী মানুষের সেবা করা। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতার ব্যবস্থা করা। বিভিন্ন উপলক্ষ্যে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করা।
৪। সমাজ কল্যাণ মূলক কাজ : –
বৃক্ষরোপন, বস্ত্র বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ ও অনুসাঙ্গিক কাজ।
৫। ধর্মীয় কাজ :
পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার মাহফিল ও ইসলামী বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও আলোচনা সভার ব্যবস্থা করা।
৬। মানবাধিকার :
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালন, মানবাধিকার সর্ম্পকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে বিধি মোতাবেক প্রতিবাদ/মানববন্ধন, সভা ও সেমিনার করা।
৭। ক্রীড়ামূলক:
সময়োপযোগী সাধ্যমত বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা। যেমন:- ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, হা-ডু-ডু , সাঁতার প্রতিযোগিতা, দৌড় প্রতিযোগিতা ইত্যাদির ব্যাবস্থা করা।
৮। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন:
আমাদের দেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবস যেমন : ২১ ফেব্রæয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর উদযাপন এবং আন্তর্জাতিক দিবস যেমন : বিশ্ব মা দিবস, বিশ^ পরিবেশ দিবস ইত্যাদি পালনের ব্যবস্থা করা হয়।

৯। গুণীজনদের সংবর্ধনা:
ক. প্রতি বৎসর শীর্ষ গুণীব্যক্তিদের “ইউএসডি পদক” কেন্দ্রীয়ভাবে দেওয়া।
খ. প্রতি ইউনিয়নে গুণীব্যক্তিদের যেমন: শিক্ষক, ডাক্তার, বুদ্ধিজীবি, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী “ইউএসডি সম্মাননা”প্রদান করা।
১০। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাহায্য প্রদান:
দেশে বন্যা, মহামারী, ঘূণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষকে যথাসাধ্যমত সাহায্য প্রদান করা।
১১। বনভোজন/পিকনিকের ব্যবস্থা:
সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বনভোজন বা পিকনিকের ব্যবস্থা করা হয়।
১২। প্রচার ও প্রচারণা কাজ:
সংগঠনের সকল কমিটির সকল কাজকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে প্রচার ও প্রচারণা করে মানুষকে “ইউনাইটেড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট” এর প্রতি উৎসাহিত ও আন্তরিক করে তোলা।
১৩। বিবিধ:
ক. জনকল্যাণমূলক ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সভা-সেমিনার, আলোচনা সভা অথবা সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া।
খ. চোখের ছানী অপারেশন।
গ. সাধ্যমত গরীব লোকদের বিবাহ ও খৎনা করার ক্ষেত্রে সহযোগীতা করা।
ঘ. সাধ্যমত মানুষের কল্যাণে সুযোগমত যে কোন ভাল কাজ করার ব্যবস্থা করা।

সংগঠনের কার্যক্রমগুলো সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আমরা আজীবন সদস্য, দাতা সদস্য, বার্ষিক পৃষ্টপোষক, কেন্দ্রীয় সদস্য ও আঞ্চলিক সদস্যসহ সকল শুভাকাঙ্খিদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

অঙ্গ সংগঠন সমূহ:
আমাদের সংগঠনের কার্যক্রমকে মাঠ পর্যায়ে গতিশীল করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে আমাদের সংগঠনের কিছু অঙ্গ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। নিচে সেগুলো সর্ম্পকে আলোকপাত করা হলো:

ইউনাইটেড পাঠাগার:
বেশি করে বই পড়ার প্রতি মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সৈয়দপুর বাজারে আমাদের কেন্দ্রীয় অফিস সংলগ্ন একটি পাঠাগার স্থাপন করেছি। বই পড়ে আলোকিত মানুষ হবার প্রত্যয় নিয়ে আমরা “ইউনাইটেড পাঠাগার” প্রতিষ্ঠা করেছি।

ইউনাইটেড সাহিত্য পরিষদ:
সৃজনশীল লেখালেখির প্রতি মানুষদেরকে উদ্ধুদ্ধ করা ও নতুন-নতুন লেখক তৈরি এবং সর্বোপরি, নবীন-প্রবীণ লেখকদের মধ্যে মিতালী গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে “ইউনাইটেড সাহিত্য পরিষদ” গঠন করা হয়েছে। এ পরিষদের মাধ্যমে ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন প্রকাশ করা ও বিভিন্ন সাহিত্য বিষয়ক কার্যক্রম সমূহ পরিচালনা করা।

ইউনাইটেড ব্লাড ব্যাংক:
রক্তদান একটি মহত কাজ। নিজেও রক্ত দান করা ও মানুষকে রক্তদানের ক্ষেত্রে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে “ইউনাইটেড ব্লাড ব্যাংক” নামে অঙ্গ-সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, বর্তমানে কলেজ ভাসির্টির ছাত্র/ছাত্রীরা রক্তদানে যথেষ্ট অবদান রাখছে।

ইউনাইটেড ছিন্নমূল শিশু উন্নয়ন ফোরাম:
অসহায় ও পথশিশুদের নিজে কাজ করার মহান লক্ষ্য নিয়ে “ইউনাইটেড ছিন্নমূল শিশু উন্নয়ন ফোরাম” গঠন করা হয়েছে। এ ফোরামের উদ্যোগে ইতিমধ্যে সিলেট বেশকিছু প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যেমন: পথশিশুদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খাদ্যদ্রব্য বিতরণ ও ঈদে কাপড় বিতরণ করা হয়েছে।
ইউনাইটেড মানবাধিকার পরিষদ:
মানুষের অধিকার সর্ম্পকে জন-সাধারণকে সচেতন করে তোলা ও মানবাধিকার লঙ্গিত হলে বিধি মোতাবেক তা আদায় করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে “ইউনাইটেড মানবাধিকার পরিষদ” গঠন করা হয়েছে।

পরিশেষে, আমরা সবার দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করি, যাতে নিয়মিতভাবে মানবতার কল্যাণে কাজ করতে পারি।

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে আমরা দেশের প্রায় ২৫টি উপজেলা ও ৭১টি ইউনিয়নে/পৌরসভায় প্রায় ৩ হাজার সদস্যদের নিয়ে আমাদের সংগঠনের নিজস্ব কমিটির মাধ্যমে মানবতার কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
এছাড়াও বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির সুবাদে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, সৌদিআরব, ওমান ও কাতারসহ বর্হিবিশ্বের প্রায় ১৮টি দেশে আমাদের শাখা কমিটি রয়েছে ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাধ্যমত মানবতার কল্যাণে কাজ করার জন্য কবুল করুন। (আমিন)

লেখক: প্রভাষক সৈয়দ আয়েশ মিয়া
প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, ইউনাইটেড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *