খবর ডেক্সঃ-
সেপ্টেম্বর ১, ২০২১
৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
স্বেচ্ছায় বদলি ১৪ কর্মকর্তা

স্বেচ্ছায় বদলি ১৪ কর্মকর্তা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার আচরণে সেখানে চাকরি করতে চান না কোনো কর্মকর্তা। গত নভেম্বরে ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও অধীন দফতরের তিনজন অতিরিক্ত সচিব, চারজন যুগ্ম-সচিব ও পাঁচজন উপসচিবসহ মোট ১৪ কর্মকর্তা তদবির করে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়ে চলে গেছেন।

যার ফলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে অতিরিক্ত মহাপরিচালকের একটি, পরিচালকের দু’টি, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবের দু’টি, উপসচিবের পাঁচটিসহ প্রায় এক ডজন পদ বর্তমানে শূন্য। মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।

তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছাড়াই সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ বেশির ভাগ দিনই অনেক রাত পর্যন্ত মিটিং করে থাকেন। অধীনস্থ কর্মকর্তাদের তিনি অকারণেই সন্দেহ করেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভালো আচরণও করেন না। এসব কারণে বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী তার ওপর ক্ষুব্ধ-বিরক্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ করে কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, প্রতিমন্ত্রীর আগ্রহেই তার এলাকার এই কর্মকর্তাকে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে পদায়ন করে সরকার। এর আগে ওই কর্মকর্তা তিন বছর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রণালয়ের বেশির ভাগ কর্মকর্তা তাকে নেতিবাচক কর্মকর্তা হিসেবে জানেন।

এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বদলি হন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে। গত নভেম্বরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন তিনি। তার আগেই প্রায় একই সময়ে উপসচিবদের একজন স্থানীয় সরকার বিভাগে, একজন সুরক্ষা সেবা বিভাগে এবং একজন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্বেচ্ছায় আবেদন করে বদলি হন। কারণ এসব কর্মকর্তা তার আচরণের সম্পর্কে আগেই অবহিত ছিলেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১ নভেম্বর ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, ৬ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের একটি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) এ কে এম শরীফুল আলম সিদ্দিকী ও মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সামিয়া শারমীন বদলি হয়ে চলে যান অন্য মন্ত্রণালয়ে।

একইভাবে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. তাজুল ইসলাম, ১১ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হাবিবুর রহমান, ২ মার্চ যুগ্ম-সচিব মনোয়ারা ইশরাত, ৯ মে মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) মুহাম্মদ মিজানুর রহমান সরকারও চলে যান অন্যত্র। ২ জুন উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল, ৭ জুন উপসচিব অঞ্জন চন্দ্র পাল, ১৭ জুন একটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক যুগ্ম-সচিব সরদার মো. কেরামত আলীও স্বেচ্ছায় চলে যান অন্য মন্ত্রণালয়ে। আগস্টে চলে যান আরও চারজন কর্মকর্তা। এরা হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. শহীদুল হক ভুইয়া, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মনীষ চাকমা, উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান ও সিনিয়র সহকারী সচিব এ বি এম রওশন কবীর।
চলে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত সচিব বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। শুধু এটুকু বলব, আগের সচিব স্যার স্কুল ফিডিং প্রকল্পসহ মন্ত্রণালয়ের যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, তার সবকিছুই এখন স্থবির। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে আন্তরিকতা নেই মন্ত্রণালয়ের। প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দিলেই মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি সামনে চলে আসবে। শীর্ষ কর্মকর্তার অদক্ষতার কারণে একটি মন্ত্রণালয় যে স্থবির হয়ে যেতে পারে তার দৃষ্টান্ত হলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ’

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের দফতরে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তিনি নিজ এলাকা কুড়িগ্রামে গেছেন। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। একইভাবে মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলমের দফতরে গেলে জানানো হয় তিনি মিটিংয়ে আছেন। তার মোবাইল ফোনেও একাধিকবার কল ও প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি সচিব।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *