জানুয়ারি ১, ২০২২
৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ
২০২২ঃ শঙ্কা কাটিয়ে উঠার বছর

২০২২ঃ শঙ্কা কাটিয়ে উঠার বছর

আগের বছর থেকেই মুখ ঢেকেছিল মাস্কে, জীবিকা পড়েছিল সঙ্কটে, রাজনীতি ঢুকেছিল ঘরে, অর্থনীতিতে নেমেছিল অনিশ্চয়তায়, দমবন্ধ এক অবস্থা! সেই অবস্থা পেরিয়ে যখন টিকা দিচ্ছিল মহামারী মুক্তির আশা; তখন আবার হতাশা নামাচ্ছে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন।

এর মধ্যেই এল খ্রিস্টীয় নতুন বছর, ২০২২ সাল। নতুন বছর নতুন শুরুর উপলক্ষ হয়ে বরাবর এলেও সেই আশায় এবার শঙ্কাও মিশে থাকল।

টিকায় সংক্রমণ এড়িয়ে থাকা যাবে কি না, আবার মৃত্যুর মিছিল শুরু হবে কি না, খুলে যাওয়া স্কুল খোলা থাকবে কি না, অফিস-আদালত আবার চলবে কি না, অর্থনীতির গতি ফিরবে কি না, জীবিকার সঙ্কট কাটবে কি না, সেই প্রশ্নগুলোই মুখ্য হয়ে উঠেছে নতুন বছরের শুরুতে।

শঙ্কা যে আছে, সে তো বর্ষবরণের উৎসবে সতর্কতার লাগাম দেখেই স্পষ্ট। কেন- তার ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বক্তব্য এসেছে, “বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ইউরোপের বর্তমান অবস্থার মতো হোক, তা সরকার চায় না।

এই মহামারীর শুরুটা হয়েছিল ২০১৯ সালের একেবারে শেষ দিকে, তারপরই বদলে যেতে থাকে বিশ্ব। সংক্রমণ এড়ানোর নজিরবিহীন এক লড়াইয়ে মানুষকে হতে হয় ঘরবন্দি। মহামারীর হানা ঘটেছিল বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে; যখন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নানা সোপান পেরিয়ে বাংলাদেশ সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছিল, সেই সঙ্গে উদযাপন হচ্ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। দুই উদযাপনকে সঙ্গী করে যখন নতুন স্বপ্নের পথে ডানা মেলার কথা বাংলাদেশের, তখন তা অনেকটাই গুটিয়ে যায় মহামারীর ছায়ায়।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারীর বাংলাদেশে হানা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই। সেই লড়াই গতি পায় বিদায়ী বছরে টিকা আসার মধ্য দিয়ে; গত ফেব্রুয়ারিতে যখন বাংলাদেশ টিকা দেওয়া শুরু করে, তখনও অনেক দেশে টিকা পৌঁছায়নি। শুরুটা ভালোই ছিল, কিন্তু তারপরই ছেদ ঘটে ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার পর।

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে ভারত বিপর্যস্ত হওয়ার পর বছরের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশেও পরিস্থিতি নাজুক হয়ে ওঠে। সংক্রমণ আর মৃত্যুর রেকর্ডের পর রেকর্ড হতে থাকে জুন, জুলাই, অগাস্টে। ২০২০ সালের মতো আবারও ফেরাতে হয় লকডাউন।

তার মধ্যে অবশ্য টিকা আসায়ও গতি বাড়ে। বিশ্বে প্রয়োগের দিক থেকে শীর্ষ তালিকায় থাকা সব টিকাই এসে যায়। বছরের শেষ নাগাদ সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়ে গেছে, তার মধ্যে ৫ কোটির বেশি মানুষ দ্বিতীয় ডোজও পেয়ে গেছেন। বুস্টার ডোজও দেওয়া শুরু হয়ে গেছে।

আশাবাদী কণ্ঠে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরী পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ বলেছিলেন, “আমরা ষাটোর্ধসহ একটা টার্গেট পিপলকে যদি বুস্টার ডোজ দিতে পারি। মাস্ক পরাসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি যদি মেনে চলতে পারি, তাহলে হয়ত আরেকটা বিপর্যয় থেকে বেঁচে যাব।”

তার এই আশায় বাদ সাধছে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট। ওমিক্রন সংক্রমিত বেশ কয়েকজন রোগীও ধরা পড়ে বছরের শেষ মাসে। ফলে দেড় বছর পর গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও তা খোলা রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে কর্তাব্যক্তিদের মনেও।

শেয়ার করুন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *